হোম আমাদের সম্পর্কে জেলা বিচার বিভাগের ইতিহাস
মেহেরপুর জেলার পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
মেহেরপুর জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি ঐতিহাসিক জেলা। এই জেলা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের গৌরবময় সাক্ষী। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে অস্থায়ী সরকার গঠন করে এবং এই স্থানকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে, ২৬শে ফেব্রুয়ারি ১৯৮৪ সালে মেহেরপুরকে কুষ্টিয়া জেলা থেকে পৃথক করে একটি স্বাধীন জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মেহেরপুরের গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় ঐতিহাসিক স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ, মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, আমদহ গ্রামের পুরাতন স্থাপত্য, আমঝুপি নীলকুঠি, ভাটপাড়া নীলকুঠি, কালাচাঁদপুর সাহা ভালাইয়ের দরগাহ, পৌর ঈদগাহ, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী আশ্রম, ভবানন্দ মন্দিরসহ আরও বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন।
মেহেরপুর জেলার নামকরণ
ঐতিহাসিক কুমুদনাথ মল্লিকের মতে, কেউ কেউ মনে করেন এই স্থানটি মিহির ও খনার বাসস্থান ছিল। সেই সূত্র ধরেই "মিহিরপুর" নামটি সময়ের পরিক্রমায় অপভ্রংশ হয়ে "মেহেরপুর" হয়েছে। অন্য এক মত অনুযায়ী, ১৬শ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ দরবেশ মেহের আলী শাহ-এর নামানুসারে এ অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে মেহেরপুর।
মেহেরপুর আদালতের ইতিহাস
প্রথমদিকে মেহেরপুরে শুধুমাত্র একটি মুন্সেফ কোর্ট ছিল, যা সাবেক সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কক্ষে পরিচালিত হতো। তখন মেহেরপুর কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত মহকুমা ছিল, এবং বিচারিক কার্যক্রম কুষ্টিয়া থেকেই পরিচালিত হতো।
পরবর্তীতে, ১৯৮৫ সালে মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট স্থাপন করা হয় এবং আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় সাবেক সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনে। পরে শহরের "পাগলাবাড়ি" নামক এলাকা অধিগ্রহণ করে সরকার সেখানে ১৯৯৬-১৯৯৭ সালের মধ্যে তিনতলা বিশিষ্ট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবন নির্মাণ করে।
আদালতের অবকাঠামো
জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট ভবনটি তিনতলা বিশিষ্ট। নিচতলায় রয়েছে রেকর্ডরুম, নকলখানা, লাইব্রেরি, হিসাব অফিস, সেরেস্তাখানা এবং নামাজঘর। এছাড়াও রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। মেহেরপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থাকলেও এর জন্য আলাদা ভবন না থাকায় জেলা জজ আদালতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দ্বিতীয় তলায় একটি কনফারেন্স রুম ও একটি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার রয়েছে। বিচারপ্রার্থী জনগণের বিশ্রামের জন্য "ন্যায়কুঞ্জ" নামে একটি বিশ্রামাগার স্থাপন করা হয়েছে।
জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট
মেহেরপুর জেলার প্রথম জেলা ও দায়রা জজ ছিলেন জনাব মোঃ কামাল উদ্দীন, যিনি ১৫ জুন ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে এই পদে আছেন জনাব এস.এম. নাসিম রেজা।
বর্তমানে জেলায় রয়েছে:
১টি জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট
২টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট
২টি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ কোর্ট
১টি সিনিয়র সহকারী জজ কোর্ট
১টি সহকারী জজ কোর্ট
এই আদালতগুলোতে মোট ৬ জন বিচারক এবং ৫৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত আছেন।
ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
১ নভেম্বর ২০০৭ সালে মেহেরপুরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বেগম মাহাফুজা রহমান। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন জনাব মোঃ শাজাহান আলী।
বর্তমানে রয়েছে:
১টি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
১টি অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
২টি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
২টি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট
এ আদালতগুলোতে বর্তমানে ৫ জন বিচারিক কর্মকর্তা এবং ৪৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত আছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত
মেহেরপুরে বর্তমানে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এবং একটি শিশু আদালত রয়েছে, যা ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব মোঃ তহিদুল ইসলাম, যিনি বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস
মেহেরপুরে একটি লিগ্যাল এইড অফিস রয়েছে। বর্তমানে বেগম লাবনী সুলতানা পলি (সিনিয়র সহকারী জজ) জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতি মাসে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন NGO প্রতিনিধি, প্যানেল আইনজীবী, বিচারিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে লিগ্যাল এইড কার্যক্রমের অগ্রগতি, সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার দ্বারা পরিচালিত হয়।
জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন
মেহেরপুর জেলা জজ আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশন একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। ১৯১৪ সালে প্রথম আইনজীবী ভবন উদ্বোধন হয়। বর্তমানে এখানে ৩টি আইনজীবী ভবন রয়েছে। নিবন্ধিত আইনজীবীর সংখ্যা ১২৬ জন। বর্তমানে জেলা বারের সভাপতি জনাব মারুফ আহাম্মদ (বিজন) এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব এ.এস.এম. সাইদুর রাজ্জাক।